ঢাকার ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের চুরির ঘটনার বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই উপজেলার ধামরাই ইউনিয়নের হাজিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায়।
আহতরা হলেন— আল আমিন (৩০), সোহরাব (৩৫) ও কায়কোবাদ (২৮)। তাদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কায়কোবাদের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তিসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির ছেলে পাচু মিয়া আকলিমা আক্তারের বাড়ি থেকে হাঁস চুরি করে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সালিশের মাধ্যমে বিচার করে পাচু মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
স্থানীয়দের দাবি, পাচু মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি ও নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বাবা ইউপি সদস্য হওয়ায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
বিচারের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান ও তার ছেলে পাচু মিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আকলিমা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানার পর আকলিমা আক্তারের ভাই আল আমিন, দেবর সোহরাব ও ছেলে কায়কোবাদ বাড়ির দিকে রওনা হলে পথে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে মুক্তিবুর মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সোমবার রাতে অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়ির গেট কুপিয়েছে। পরে রাস্তায় আমার ছেলে, ভাই ও দেবরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমার ছেলের মাথায় একাধিক কোপ দেওয়া হয়েছে, মাথার খুলি ভেতরে ঢুকে গেছে।”
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া সত্ত্বেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, “উভয় পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”










