সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রাজধানীর রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশটির প্রথম নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পেল। শপথের পর ঘোষণা দেওয়া হয় যে আগামী ৫ মার্চ, ২০২৬-এ দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাওডেল, প্রধানমন্ত্রী কার্কি, উপ-রাষ্ট্রপতি রাম সহায় যাদব এবং প্রধান বিচারপতি প্রকাশ মান সিং রাওয়াত এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি পাওডেল, সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল এবং জেনারেশন জেড আন্দোলনের প্রতিনিধিদের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই আন্দোলনের জোরেই কয়েকদিন আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন।
গত কয়েকদিন ধরে দুর্নীতি ও বেকারত্বে ক্ষুব্ধ তরুণদের নেতৃত্বে নেপালে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। পুলিশি দমন-পীড়নে অন্তত ৫১ জন নিহত হন এবং শেষ পর্যন্ত অলি পদত্যাগ করেন।
যদিও কয়েকদিন ধরেই সুশীলা কার্কির নাম আলোচনায় ছিল, তবে তিনিই একমাত্র প্রার্থী ছিলেন না। এক পর্যায়ে খবর আসে যে আন্দোলনকারীরা বিভক্ত, কিছু অংশ কুলমান ঘিসিংকে সমর্থন দিচ্ছে- যিনি নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের কৃতিত্বে পরিচিত। এছাড়া কাঠমান্ডুর মেয়র ও জনপ্রিয় র্যাপার, ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহও ছিলেন আলোচনায়।
২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুশীলা কার্কি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি বিশেষ করে তরুণদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।
তবে বিচারপতি হিসেবে তার মেয়াদকালে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে সরকার অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হয়। জনমতের চাপে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়, তবে এই ঘটনার পর তিনি হতাশ হয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেন।
সূত্র: এনডিটিভি










