সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার নির্ধারিত পার্কিংয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া পাঁচটি পোড়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলোর নমুনার সঙ্গে নিখোঁজ দাবি করা পাঁচ পরিবারের নয় সদস্যের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মরদেহগুলো অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে মরদেহের নমুনা ও নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হারুন-অর-রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পাঁচটি মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় সাধারণভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাঁচটি মরদেহ ও নিখোঁজ দাবি করা পাঁচ পরিবারের নয় সদস্যের ডিএনএ নমুনা সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সিআইডিকে অনুরোধ করা হবে।
বিস্ফোরণের পর থেকে মুগদা থানার উত্তর মান্ডা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল কাজী তার ছেলে ইমতিয়াজ কাজী (১৮)কে খুঁজে পাচ্ছেন না। সাইফুল জানান, তার ছেলে ভোলা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি কাভার্ডভ্যান নিয়ে আশুলিয়ায় এসেছিলেন। তিনি ওই কাভার্ডভ্যানের চালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। কাভার্ডভ্যানটির চালক নুর ইসলাম বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সাইফুল কাজী বলেন, পাঁচ মরদেহের মধ্যে তার ছেলের মরদেহ থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য তিনি সিআইডিতে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, নমুনাগুলো পাওয়া গেছে। রিপোর্ট পেতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। নমুনাগুলো হার্ড টিস্যুর হওয়ায় পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি সময় লাগবে।
নিহত ৮
প্রীতি গ্রুপে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজন মারা গেছেন। বিস্ফোরণের সময় উড়ে যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডারের আঘাতে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ গজ দূরের একটি দোকানে থাকা জয়নব বেগম (৫৫) ও সবজি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম (৩২) নিহত হন। দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কাভার্ডভ্যানের চালক নুরুল ইসলাম (৩০)।
এই তিনজনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। তবে ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।
মামলায় দাহ্য পদার্থ অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন কারখানার জিএম সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মোজাম্মেল হোসেন, প্রকৌশলী রাজীব হোসেন, হেলপার আল আমীন ও মো. এনামুল।
তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহের অভিযোগ থাকা সিএনজি স্টেশনের মালিক এবং সংশ্লিষ্ট খাতের তদারকির দায়িত্বে থাকা তিতাস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মামলায় আসামি না করায় প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিক নেতারা।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে যাদের দায়ী মনে হয়েছে, মামলায় তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে কারও অপরাধ বা দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণ হলে মামলায় তাদের নাম সংযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।
আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ওসি বলেন, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।







