শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ২৮ শাওয়াল, ১৪৪৭

পাকিস্তানের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাইলো আইসিসি

ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এ তথ্য জানিয়েছে ইএসপিএন ক্রিকইনফো।

ক্রিকইনফোর বরাতে জানা গেছে, পিসিবি আইসিসিকে মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে যে সরকারি নির্দেশনার কারণে তারা কলম্বোতে নির্ধারিত ওই ম্যাচে অংশ নিতে পারছে না। একই সঙ্গে আইসিসি পাকিস্তানকে রাজি করানোর জন্য সবরকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

আইসিসি জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তির সুযোগ নেই। কারণ, বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা সরকারের হঠাৎ দেওয়া কোনো নির্দেশের ক্ষেত্রে চুক্তি পূরণ সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আইনগতভাবে দায়ী হয় না। আইসিসির টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত চুক্তিতেও সরকারি নির্দেশকে ফোর্স মাজ্যুর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দেশের সরকার যদি দলকে খেলায় অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেয়, সেটি বৈধ কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পিসিবি আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিল যে তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও মন্ত্রিসভার আলোচনায় একই কথা জানান এবং বিষয়টিকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির সঙ্গে যুক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকার করেছিল। তবে আইসিসি বিসিবির সেই দাবিকে মানেনি এবং বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আইসিসির মেম্বারস পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (এমপিএ) অনুযায়ী, কোনো বোর্ড ফোর্স মাজ্যুর দাবি করতে পারবে যদি চারটি শর্ত পূরণ হয়:

১. ঘটনা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হতে হবে
২. এটি চুক্তিগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করবে
৩. বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নথি সহ আইসিসিকে বিষয়টি জানাবে
৪. ঘটনার প্রভাব কমাতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হবে

এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তান তাদের পক্ষে কোন যুক্তিগুলো উপস্থাপন করবে। আইসিসি জানিয়েছে, যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে, তবে সংস্থা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তার জন্য তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার রাখে। তবে তারা সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলতে চায়। একই সঙ্গে আইসিসি মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনো বোর্ডের গুরুতর চুক্তিভঙ্গ হলে তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যার মধ্যে সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও রয়েছে।

পিসিবি নিজেদের শক্ত যুক্তি নিয়েও তৈরি। তারা ২০১৪ সালের এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরছে, যেখানে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি সিরিজ খেলার কথা ছিল, কিন্তু ভারত সেই চুক্তি মানেনি। শেষ পর্যন্ত আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি (ডিআরসি) সেই মামলায় পাকিস্তানকে ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তবে পিসিবির মতে, তখন ভারত সরকারের অনুমতি না দেওয়া বিষয়টি বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করতে পারে।

আইসিসি ও পিসিবি পর্দার আড়ালে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। এই আলোচনায় আইসিসির পরিচালক ইমরান খাজা ও মুবারিশ উসমানির মধ্যস্থতাও রয়েছে। এখনও পর্যন্ত উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

সূত্র: ক্রিকইনফো

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     12345
    6789101112
    13141516171819
    20212223242526
    27282930