প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত তিন দফা দাবির লংমার্চ কর্মসূচি দমাতে বুধবার (২৭ আগস্ট) শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নিলে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বেলা দেড়টার দিকে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। পাল্টা শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের বহুজন আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হয় বুয়েট, রুয়েট ও আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীকে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংঘর্ষে আট পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ডিসি মাসুদ আলম, এডিসি রেজোয়ানুল ইসলামসহ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ডিপ্লোমাধারীরা নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ লিখতে পারবে না, কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত করা যাবে না এবং দশম গ্রেডে চাকরিতে কেবল স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দিতে হবে।
এদিকে সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারীরা সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পাঁচ দফা ঘোষণা দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার করে চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চার উপদেষ্টা, প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমা প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সুপারিশ দেওয়া হবে। তবে আন্দোলনকারীরা এই কমিটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছে।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদও প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাত দফা স্মারকলিপি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ডেস্ক ও ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পৃথকীকরণ, উপসহকারী প্রকৌশলীর পদ ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সংরক্ষণ এবং কারিগরি ক্যাডারের বাইরে নিয়োগ বন্ধ।
সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম সাদ্দাম নিন্দা জানান। এদিকে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু বোরহান মো. বদরুজ্জামান সরকারকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে আহ্বান করেছেন।
সংঘর্ষের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। শিক্ষার্থীরা রাজপথে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে। তারা ‘ভুয়া ভুয়া, কোটা না মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
প্রসঙ্গত, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকনকে ডিপ্লোমাধারী কর্মচারীরা গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়। এর প্রতিবাদেও প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।










