নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাড়া খেয়ে তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে গিয়ে ডুবে গেছে ‘এমভি আবুল কালাম’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে পানিতে ভাসতে থাকে তারা।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা সাগরে ভাসার পর সর্বশেষ সোমবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে ডুবে যাওয়ার ট্রলারের জেলেদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলার বাংলা বাজার ঘাটে নিয়ে আসে স্থানীয় জেলেরা। এর আগে গত রোববার সকালে নিঝুমদ্বীপ সংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।
জলদস্যুদের ধাওয়া ট্রলার ডুবে যাওয়া এবং ওই ট্রলার থাকা জেলেদের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘এমভি আবুল কালাম’-এর মালিক কালু মাঝি।
তিনি বলেন, রোববার সকালে নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মাছ ধরার জন্য ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে যায়। এ সময় হঠাৎ করে তাদেরকে ধাওয়া করে জলদস্যুরা। একপর্যায়ে জলদস্যুরা পিছন থেকে দ্রুত গতিতে এসে জেলেদের ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তেই ট্রলারটি উল্টে গিয়ে সাগরে অনেকাংশ ডুবে যায়। পরে জলদস্যুরা চলে গেলে জেলেরা ডুবে যাওয়া ট্রলারের অংশবিশেষ ধরে ভাসতে থাকে।
তিনি আরও জানান, জলদস্যুরা ট্রলারটি ডুবিয়ে দেওয়ার পর সামান্য অংশ ভাসতে থাকে। জেলেরা সেটি ধরে ২৪ ঘন্টা সাগরে ভেসে ছিলে। পরে সোমবার সাগরে মাছ ধরার দুটি ট্রলার ভাসতে থাকা জেলেদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলার বাংলা বাজার ঘাটে নিয়ে আসে।
হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ঘাটের নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আশিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। নিঝুমদ্বীপ থেকে ঘটনাস্থল অনেক দূরে হওয়ায় আমাদের কিছুই করার ছিল না। তাছাড়া আমাদের শক্তিশালী কোনো নৌযান নেই। এজন্য আমরা চাইলেও গভীর সমুদ্রে গিয়ে কোনো অভিযান করতে পারি না।










