সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তিন ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পর ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে স্থানীয়রা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিক্ষোভের কারণে প্রায় ৪৫ মিনিট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন ফরমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, ওই স্বাক্ষরগুলো তিন ইউনিয়নকে সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, কোনো ধরনের প্রতারণা বা কৌশলের মাধ্যমে এলাকার মানুষের মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে সাভারেই রাখার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহনাজ আক্তার বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকেই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ফরমে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে সেই স্বাক্ষর অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
স্থানীয় বাসিন্দা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির কাগজপত্রসহ সব সরকারি নথিতে তারা সাভারের বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধিত। তাই কোনোভাবেই তারা কেরানীগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না।

সমাবেশে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল উদ্দিন সরকার অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিন ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করা হবে। প্রয়োজনে এ তিন ইউনিয়নকে পুনরায় ঢাকা-১৯ আসনের আওতায় রাখার দাবিতে আন্দোলনেরও ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট দিন ইসলাম, নয়ন সরকার, যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার (শাওন সরকার) এবং আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, এলাকাভিত্তিক গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।









