| | |

সামান্য বৃষ্টিতেই সাভার পৌরসভায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

নাজমুল হুদা

সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় সাভার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক, অলিগলি ও বসতবাড়ির সামনের এলাকা। বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে যায় ড্রেন, বাথরুম ও ম্যানহোলের দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য। এতে প্রায় ৪০ হাজার পোশাক শ্রমিকসহ হাজারো স্থানীয় বাসিন্দা বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজি লাল মিয়া মাদবরের বাড়ির সামনের সড়কসহ ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে ৩ নম্বর গেন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে জায়গা ভরাট করে মূল ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় ওই এলাকা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন হতো। তবে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতি বর্ষায় রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। কর্মস্থলে যাওয়া-আসার সময় হাঁটুসমান নোংরা পানি পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের। একই পরিস্থিতির মধ্যে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিশু-কিশোরদের। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনাও ঘটছে।

বাসিন্দাদের দাবি, জলাবদ্ধতার পানিতে ড্রেন ও সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য মিশে থাকায় শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে চর্মরোগ, অ্যালার্জি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

সাভার পৌর যুবদলের সাবেক কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় নূরে জাহান জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন। লিখিত ও মৌখিকভাবে পৌরসভা এবং জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ড্রেনের মুখ দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজি লাল মিয়া মাদবর বলেন, বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। রাতে বৃষ্টি হলে সকালে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের স্কুলে পাঠানো যায় না, কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। অনেক সময় যানবাহনও পানিতে বিকল হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ইউছুফ মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই মসজিদে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। নোংরা পানির কারণে ধর্মীয় কাজেও বিঘ্ন ঘটে। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান চান।

স্থানীয় গৃহিণী রুনা বেগম বলেন, জলাবদ্ধতা এ এলাকার মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত লোক পাঠিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে ড্রেনের মুখ বন্ধ করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ