রাজধানী ঢাকার পাশের জনপদ সাভারে ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে বায়ুদূষণ। বুধবার (৪ ) সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় বায়ুর মান সূচক (AQI) ছিল ২৭০, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে সাভারের বায়ুর মান ছিল ৬৪০, যা দুর্যোগপূর্ণ মাত্রা হিসেবে ধরা হয়। বায়ুর মান ৩০০ অতিক্রম করলেই তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণের সার্বক্ষণিক তথ্য প্রকাশ করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিশ্বের ১২৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।
উল্লেখ্য, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সালে সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ ঘোষণার মাধ্যমে এলাকায় বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে ছিল টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া অন্য সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো, উন্মুক্ত স্থানে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো এবং বায়ুদূষণের ঝুঁকি রয়েছে এমন নতুন শিল্পকারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান।
তবে ঘোষণার পরও সাভারের দূষণ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং বর্তমানে তা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ আবদুস সালাম বলেন, সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। কিন্তু বাস্তবে দূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ খুব বেশি নেওয়া হয়নি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, বায়ুদূষণের পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতেই সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলায় বর্তমানে ১০৬টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সাভারের দূষিত বাতাস ঢাকায় প্রবেশ করে, ফলে রাজধানীর দূষণও বেড়ে যায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পর প্রথম দিকে কয়েক মাস অনেক ইটভাটা বন্ধ ছিল। তবে পরে অনেকগুলো আবার চালু হয়েছে। এছাড়া ইটভাটা ছাড়াও অন্যান্য কারণেও দূষণ বাড়তে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।










