জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পতাকা বৈঠকের পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিএসএফ সদস্যরা তাকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে নো ম্যান্স ল্যান্ডে নিয়ে এলে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যায় জামালপুর ৩৫ বিজিবির সদস্যরা। তারা ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেন। আবার ভারতের দিকে ফিরে যেতে চাইলে সেখানকার লোকজনও তাকে ধাওয়া দেয়। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল ১০টার দিকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে এবং নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের এক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৈঠক শেষে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে না নিয়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রেখে চলে যায়। অন্যদিকে বিজিবিও তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে সীমান্তের দুই পাশেই শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয়েছেন। স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালে একজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”










