| | |

ওমরাহ যাত্রাকালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা’সহ দুই সন্তান

সাভার ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে নিজেদের গাড়িতে করে তিন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মক্কায় ওমরাহ হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন শফিকুল ইসলাম শফিক। গাড়ি তিনিই চালাচ্ছিলেন। তার পাশেই সামনের আসনে বসেছিলেন বড় ছেলে নাবিল। আর পেছনের আসনে পাশাপাশি বসেছিলেন মা তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), মেজ ছেলে তাজবিক (১৭) এবং ছোট মেয়ে সাদাফ (১৫)। কিন্তু তাদের সেই ওমরাহ যাত্রা আর গন্তব্য পৌছায়নি। বরং পাঁচ সদসস্যের পরিবারের তিনজনেরই সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।

রিয়াদ থেকে আনুমানিক ২শ’ কিলোমিটার যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের গাড়ি। পরিবারের ধারণা, পেছন থেকে কোনো ভারী যানবাহন তাদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে পেছনের সিটে বসা তিনজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। অলৌকিকভাবে গাড়ির সামনে থাকা বাবা ও বড় ছেলে বেঁচে যান ঠিকই, কিন্তু চোখের সামনে স্ত্রী ও দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

নিহত রিনা ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে রিয়াদে বসবাস করছিলেন। তার স্বামী সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে কর্মরত।

রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ জানান, ‘মেজো ছেলেটা ’এ’ লেভেল শেষ করে ফিনল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। আর এক সপ্তাহ পরই তার ফ্লাইট ছিল। সে চলে যাওয়ার আগে সবাই মিলে ওমরাহ করতে যাচ্ছিল।’

তিনি জানান, পরিবারের বড় ছেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আর ছোট মেয়ে এবার ও লেভেল পরীক্ষার্থী ছিল।

মুরাদের ভাষ্য, ‘সম্ভবত পেছন থেকে কোনো বড় গাড়ি এসে ধাক্কা দেয়। তাই পেছনের সিটে থাকা তিনজনই মারা যায়।’

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছাতে বেশ সময় লেগেছে। ঘটনাস্থল রিয়াদ থেকে প্রায় ২শ’ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এক আত্মীয় সেখানে পৌঁছাতেই প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। সব মিলিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে পারেন।

স্বামী ও বড় ছেলে শারীরিকভাবে আশঙ্কামুক্ত হলেও তারা গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান মুরাদ।

নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted