সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি জহুরুল ইসলামকে (৩২) পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. জাকির আল আহসান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর স্বামীকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শফি উজ্জামান স্বপন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বড়দেশী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোগ্যারেজের সামনে অটো রাখা নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। ওই বিরোধ থামাতে গেলে আসামিদের রোষানলে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশ বাক্স থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।









