শুক্রবার | ১ মে, ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ১৩ জিলকদ, ১৪৪৭

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, বাবাকে কুপিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেন ছেলে। হত্যার পর লাশের পাশেই নির্বিকার বসে ছিলেন ছেলে ফারুক (২৭)।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৯ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে শিবচরের বাঁশকান্দি এলাকায়। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারুক জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল নিজের স্ত্রীর সঙ্গে বাবা ও ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক!

নিহত মতিউর ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন।

এলাকাবাসী জানায়, ফারুকের যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে সেই স্ত্রীর সঙ্গে তার ভাই ও বাবার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। এর পেছনেও ছিল বাবার হাত। বাবার সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরেই বাবাকে হত্যা করে ছেলে ফারুক।

গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দেন ফারুক।

সোমবার রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘মতিউর ও তার ছেলে ফারুক কাজের সন্ধানে মাদারীপুর জেলার শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে এসে রসুন বপনের কাজ নেন। রোববার রাতে বাবা-ছেলে রাতের খাবার শেষে একসঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে যান। রাত ১০টার পর বিছানায় শুয়ে ছেলে ফারুকের বউয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন বাবা মতিউর। এসময় পাশের ঘরে বসে বিড়ি টানছিলেন ফারুক।

পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘুমিয়ে পড়লে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বাবার মুখে কোদাল দিয়ে কোপ মারেন। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখ, মাথা আর বুকসহ এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। মাত্র আড়াই মিনিটে সর্বমোট ১৭টি কোপ দেন। মতিউরের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তার লাশের পাশে বসেই বিড়ি ধরিয়ে টানতে থাকেন ফারুক।

তিনি আরও জানান, ‘শব্দ পেয়ে পাশের ঘর থেকে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মতিউরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় ফারুককে অবিচল আর নিশ্চুপ থাকতে দেখে বাড়ির মালিক শিবচর থানায় ফোন দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ছেলেকে আটক করে। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল, ফারুকের রক্তাক্ত জামা-কাপড়সহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।’

লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মতিউরের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে তার ছেলেকে আসামি করে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার ফারুককে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হলে তার বাবা মতিউরকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। নিজের দোষ স্বীকার করে বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়া শেষে ফারুককে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবাকে হত্যার জন্য আগে থেকেই পাশের রুমে একটি কোদাল লুকিয়ে রেখেছিলেন ফারুক। অপেক্ষায় ছিলেন কখন তার বাবা ঘুমাতে যাবেন সেই সুযোগের।’

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031