রবিবার | ২১ জুন, ২০২৬ | ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ৫ মহর্‌রম, ১৪৪৮

জোড়াতালির ইঞ্জিনে ঝলমলে রং, ঝুঁকিতে লাখো মানুষের ঈদযাত্রা

হাসিবুল হাসান শান্ত

গ্যারেজগুলোতে সাজসজ্জার ধুম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার তোড়জোড় চললেও আড়ালে রয়ে যাচ্ছে বড় এক ঝুঁকি। সাভারের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে, তবে তা ইঞ্জিন মেরামতের চেয়ে লক্কড়ঝক্কড় বাসের ওপর রঙের প্রলেপ দেওয়ার জন্যই বেশি। বাহ্যিকভাবে বাসগুলোকে নতুনের মতো সাজানো হলেও ভেতরে চলছে ‘জোড়াতালির’ কারবার, যা ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সাভারের আমিন বাজার, বলিয়াপুর ও রাজফুলবাড়িয়া এলাকার গ্যারেজগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনরাত চলছে পুরোনো বাস মেরামতের কাজ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাসের বডি মেরামত ও উজ্জ্বল রঙে। উদ্দেশ্য—চকচকে রূপ দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের আকৃষ্ট করা।

সাভারের এক ওয়ার্কশপের ইঞ্জিনমিস্ত্রি মিজানুর রহমান অকপটে স্বীকার করেন বর্তমান চিত্র। তিনি বলেন, ‘মালিকরা এখন ইঞ্জিনের চেয়ে বাইরের চাকচিক্য বাড়াতে বেশি আগ্রহী। অরিজিনাল যন্ত্রাংশের দাম অনেক বেশি হওয়ায় অনেকেই লেদ মেশিনে তৈরি বিকল্প বা নিম্নমানের পার্টস ব্যবহার করছেন। এটা যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা সবাই জানলেও খরচ বাঁচাতে এমনটা করা হচ্ছে।’

নব্বই দশকের এক পুরোনো বাসের চালক মুসলেম উদ্দিন অবশ্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তার মতে, বাস কখনো পুরোনো হয় না, সামান্য মেরামতে তা আবার চলার উপযোগী হয়। তবে তিনিও স্বীকার করেছেন যে, ভালো যন্ত্রাংশের দুষ্প্রাপ্যতা ও চড়া দামের কারণে তারা বিকল্প পথে হাঁটতে বাধ্য হন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের এই লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো সাধারণত স্থানীয় ছোট রুটে চলে। কিন্তু ২৭ রমজান থেকে এগুলো দূরপাল্লার যাত্রী নিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। প্রতিবছরই এই ধরনের ফিটনেসবিহীন বাস মাঝপথে বিকল হয়ে সৃষ্টি করে তীব্র যানজট। অনেক সময় ব্রেক ফেল বা ইঞ্জিন বিকল হয়ে বড় দুর্ঘটনারও কারণ হয় এসব যানবাহন।

সাভারের বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কেন্দ্রীয় সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আনফিট যানবাহনের কারণেই সড়কে প্রাণহানি ঘটছে। এগুলো বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সড়ক কখনোই নিরাপদ হবে না।’

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান জানান, ঈদযাত্রায় আনফিট যানবাহন ঠেকাতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। সড়কে কড়া নজরদারি থাকবে এবং নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝলমলে রঙের আড়ালে এই মরণফাঁদগুলো কি শেষ পর্যন্ত সড়কে দাপিয়ে বেড়াবে, নাকি প্রশাসনের নজরদারি সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930