শনিবার | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ | ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ৭ জিলকদ, ১৪৪৭

শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

সাভার ডেস্ক

রাজধানীর শাহবাগে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে দফায় দফায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির প্যানেলের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক আইডি থেকে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শাহবাগ থানার ভেতরেও এ নিয়ে উভয় পক্ষের হাতাহাতিতে আতঙ্ক ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
রাত সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত একই পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিকো বলেন, দুই পক্ষ থানার সামনে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে তাঁর ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ছবি পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আনে ছাত্রদল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ওই কুরুচিপূর্ণ ছবি ফেসবুকে পোস্টের প্রমাণ তাঁদের কাছে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছে, যা গতকাল ক্যাম্পাস পর্যন্ত গড়ায়। পরে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলে প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। হামলার মুখে থানার ভেতরে আশ্রয় নেন ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও জুবায়ের।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা দাবি করেছেন, সংঘর্ষের সময় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে ভিডিও করতে গেলে নেতাকর্মীরা তাঁদের বাধা দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগ থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরে শাহবাগ থানার সামনে দাঁড়িয়ে ‘গুপ্ত রাজনীতি চলবে না চলবে না’, ‘গুপ্তের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রদলের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ ঘটনা ঘটে।

গতকাল রাতে শাহবাগ থানার পুলিশ এ তথ্য দিয়ে জানায়, দুই গ্রুপের ছাত্ররা থানার ভেতরেও সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, এ ঘটনার এক পর্যায়ে শাহবাগ থানার ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির। থানার ভেতরে ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়েরও আটকা পড়েন।

এক পর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। হামলার মুখে থানার ভেতরে আশ্রয় নেন ডাকসু নেতা মুসাদ্দিক ও জুবায়ের।

এর আগে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক আলী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “বুধবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে কলা ভবনের পেছনের ফটকের সামনে ক্লাসে যাওয়ার পথে আলাউদ্দিনসহ আরো কয়েকজন তাঁর পথ রোধ করেন। পথ রোধ করে দাঁড়ালে আমি জিজ্ঞেস করি, কী হইছে ভাই? আপনি কে? আমি তাঁকে চিনতে পারছিলাম না। তিনি আমাকে প্রথমেই বলেন, ‘তুই আমাকে চিনতে পারতেছিস না?’ এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং বলেন আমার দাঁত ফেলে দেবেন।”

ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক আরো অভিযোগ করেন, আলাউদ্দিন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এক পর্যায়ে মারতে যান। এ সময় সঙ্গীরা তাঁকে সরিয়ে নিলেও বারবার তেড়ে এসে হামলার চেষ্টা করেন এবং যাওয়ার সময় হুমকি দেন। রাতে ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভিও শাহবাগ থানার ভেতরে ছিলেন। বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন।

এদিকে কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুপ্ত শিবির বলাকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকেল ৪টায় নাফিস আব্দুল্লাহ নামের একজন শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই থাপ্পড়ের বিচারের জন্যই সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের কক্ষে যায় ছাত্রশিবির। অধ্যক্ষ বিচারের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করেন। কিন্তু তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করে ছাত্রশিবির।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     12345
    6789101112
    13141516171819
    20212223242526
    27282930