শনিবার | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ | ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ৭ জিলকদ, ১৪৪৭

সাভার-আশুলিয়ায় বাড়ছে ধর্ষণ, তিন মাসে মামলা ২৪

নাজমুল হুদা

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় দিন দিন নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ দুই থানায় ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মোট ২৪টি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সামাজিক লজ্জা ও চাপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ না করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সাভার মডেল থানায় ৬টি এবং আশুলিয়া থানায় ১৮টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সাভার মডেল থানার মামলাগুলোতে ১১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর ৪ জন পলাতক রয়েছে।

অন্যদিকে আশুলিয়া থানার ১৮টি মামলায় ২২ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ১২ জন এখনো পলাতক।

উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১৫ জানুয়ারি চলন্ত বাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসচালক ও তার সহযোগী তরুণীকে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে। পরে টাঙ্গাইলের একটি এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ২৪ জানুয়ারি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি বাসায় স্বামীকে জিম্মি করে নববধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে র‌্যাব এক অভিযানে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে।

ফেব্রুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

মার্চ মাসে আশুলিয়ায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এপ্রিলেও সহিংসতা থামেনি। বিরুলিয়া ইউনিয়নে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ এপ্রিল সাভারের ডগরমোড়া এলাকায় এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বাদল বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও সামাজিক লজ্জা ও মানসম্মানের ভয়ে অনেক পরিবার মামলা করতে চায় না, ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।

সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম বলেন, ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, ট্রাফিক অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন মাসে দায়ের হওয়া ২৪টি মামলায় ৩৩ জন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     12345
    6789101112
    13141516171819
    20212223242526
    27282930