রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বরখাস্ত হওয়া আলোচিত সাবেক এসআই মাহবুব হাসানকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।
শনিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নগরীর হজের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরএমপির চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআই মাহবুব হাসান স্বঘোষিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তার উত্থান ঘটে এবং দলীয় প্রভাবে পুলিশের চাকরি পান। গোয়েন্দা বিভাগে থাকাকালীন বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তিনি টার্গেট করে গ্রেফতার ও নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব হাসান সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, গ্রেফতার বাণিজ্য ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিতেন। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর, রাজশাহীর রেলগেট এলাকার রাজিব আলী রাতুলকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান মাহবুব হাসান। পরে শিমলা বাগানে নিয়ে গিয়ে তার বাবা মাসুদ রানার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠে।
পরদিন রাজিবকে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি ১৬ মাস কারাভোগের পর জামিন পান। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে মাহবুব হাসান তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে শহীদ হওয়া আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম হত্যাকাণ্ডের দুটি মামলায়ও মাহবুব হাসান আসামি বলে জানা গেছে।
শনিবার রাতে স্থানীয়রা তাকে চিনে ফেললে গণধোলাই দেয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে জামায়াত ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।
জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এসআই হাসানের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরের সাবেক সভাপতি হাফেজ খাইরুল ইসলামও এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ জানান, “মাহবুব হাসান বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”










