জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) হল সংসদ নির্বাচনে ১০২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। এ ছাড়া ৬৩টি পদে কোনো প্রার্থী নেই, ফলে এসব পদ শূন্য থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে প্রতিটি হলে ১৫টি করে মোট ৩১৫ পদ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শনিবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা চলবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১০২ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৮১৭ জন।
ছাত্রী হলে ৫৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী :
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি ছাত্রী হলে শীর্ষ পদসহ অন্তত ৫৬ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ভিপি ও জিএসসহ ছয়টি পদে জয় নিশ্চিত হয়েছে, তবে বাকি ৯টি পদ শূন্য। বেগম সুফিয়া কামাল হলে ভিপি-জিএসসহ ১০ জন, প্রীতিলতা হলে ১০ জন, ফজিলাতুন্নেছা হলে ৯ জন, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৬ জন, ১৫ নম্বর হলে ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন।
ছাত্র হলের চিত্র :
ছাত্রদের ১১টি হলে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ সালাম-বরকত হলে সর্বোচ্চ ৯ জন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে ৮ জন, আল-বেরুনী হলে ৫ জন, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে ৫ জন, শহীদ তাজউদ্দীন হলে ৪ জন, শহীদ রফিক-জব্বার হলে ৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
শূন্য পদে নির্বাচন হবে :
২১টি হলে অন্তত ১৬টিতে শূন্য পদ রয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে ১৩ নম্বর ছাত্রী হলে—১২টি। এছাড়া নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ৯টি ও বেগম খালেদা জিয়া হলে ৭টি পদ শূন্য। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হলে কোরাম পূরণের জন্য ন্যূনতম চারজন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। কিন্তু ১৩ নম্বর হলে নির্বাচিত হচ্ছেন মাত্র তিনজন, ফলে সেখানে পরবর্তী সময়ে শূন্য পদে নির্বাচন হবে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, যেসব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, তাঁদের বিজয় ঘোষণা করা হবে। আর শূন্য পদে পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা :
জাকসুর ২৫টি পদে মোট ১৭৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি পদে ১০ এবং জিএস পদে ৯ জন লড়াইয়ে নামছেন। এছাড়া সাংস্কৃতিক, সাহিত্য, ক্রীড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ ও সমাজসেবাসহ প্রায় সবগুলো পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী ও পুরুষ কার্যকরী সদস্য পদেও যথাক্রমে ১৬ ও ২৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বামপন্থী ও স্বতন্ত্র প্যানেল :
বামপন্থী শিক্ষার্থীরা ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ নামে প্যানেল ঘোষণা করেছে। এতে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি অমর্ত্য রায় জন এবং জিএস পদে শরণ এহসান। প্যানেলটিতে নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রার্থীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ নামে আরেকটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতু ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাকিল আলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকায় অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হয়নি। তবে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন হলে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় হবেন।










