| | |

বৃষ্টি ও ঢলে পানিবন্দি দুই হাজার পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, রাঙামাটি

ফাইল ছবি

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে জেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এক ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হ্রদে পানি বাড়ার কারণে রাঙামাটি শহর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ির নিচু এলাকা ডুবে রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। গতকাল মঙ্গলবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের কুমড়াটিলা, লুম্বিনী, আসামবস্তি, নোয়াপাড়া, মুসলিমপাড়া, ব্রাহ্মণটিলাসহ শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়ক পানিতে ডুবে রয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

শহরের নোয়াপাড়ায় বসবাস করা রাঙামাটি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মহিউদ্দিন জানান, কয়েক দিন ধরে তার এলাকায় পানি উঠেছে। এতে সড়ক দিয়ে চলাচল করতেই মানুষের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এলাকায় একটি শ্মশান রয়েছে। পানি বাড়ার কারণে সেখানে লাশ নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নোয়াদাম মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, দুই মাস ধরে আমার বাড়ি পানিতে ডুবে আছে। এখন খাটের ওপরেই রান্না, খাওয়া, ঘুমানো সবকিছু করতে হচ্ছে। নোয়াপাড়া ও ব্রাহ্মণটিলা এলাকায় প্রায় আড়াই শ পরিবারের একই অবস্থা। বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ার কারণে আমাদের ইউনিয়নের অবস্থা খুব খারাপ। সোমবার থেকে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড পুরো ডুবে রয়েছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ ডুবে গেছে। তিনটি ওয়ার্ডে অন্তত ৩০০ পরিবার পানিবন্দি।

কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানি বাড়ার কারণে সোমবার দুপুরে কাপ্তাই বাঁধের পানি ৬ ইঞ্চি করে ছাড়া হয়। তবে পানি বেড়ে যাওয়ায় পরে বাঁধ এক ফুট করে খোলা হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই লেক থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টায় কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ১০৮ দশমিক ৮০ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল) ছিল।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted