সিরাজগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে সন্দেহভাজন আসামি শাহাদত হোসেন নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের ভাই জহুরুলের অভিযোগ, ‘ডিবির ওসি সিদ্দিকুর রহমান ও নাজমুল হোসেনসহ কতিপয় পুলিশ সদস্যরা গ্রেফতারের পর থেকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।’
নিহত শাহাদতের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নে।
জানা যায়, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে গুরুতর অবস্থায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে শাহাদতের মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারে অভিযোগ, শাহাদতকে আটকের পর পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে ডিবি পুলিশ। তাদের চাহিদা মোতাবেক টাকা না দেওয়ার কারণে অমানবিক নির্যাতন করে শাহাদতকে। পরে সেদিন বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সিনিয়র নার্স এমি খানম জানান, ‘আমাদের কাছে শারিরিক নির্যাতন হিসেবেই ভর্তি করে ডিবি পুলিশ। আমরা চিকিৎসা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হক বলেন, ‘ওই আসামিকে আমরা আটক বা গ্রেফতার করিনি। তবে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হককে শুধু তথ্য দেওয়া হয়েছিল।’
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান জানান, ‘শুক্রবার সকালেই তাকে আটক করা হয়। এরপর দুপুরের দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন।’
এদিকে, এই ঘটনায় সাইদুল নামের আরেক সন্দেহভাজন আসামিকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তার পরিবারের অভিযোগ, এঘটনার সঙ্গে সাইদুলের কোনো সম্পর্ক নেই অথচ তাকে আটক করছে পুলিশ। আর আটকের পর থেকেই এক লাখ টাকা দাবি করে আসছে পুলিশ। দুপুর পর থেকে সাইদুল কোথায় আছে তা জানে না পরিবার। ডিবি কার্যালয়ে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ নভেম্বর উল্লাপাড়ায় এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে কে বা কারা। সেই মামলায় শাহাদাৎ হোসেন নামে এক ভ্যানচালককে সন্দেহভাজনভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন আগে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় শাহাদৎ হোসেনের। পরিবারের দাবি তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলেন, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত থাকার কারণে মৃত্যু হয়েছে তার।










