ঢাকার আশুলিয়ায় ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সাভার থানা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তার তুর্য সাভারের মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আবু আহমেদ নাসিম পাভেলের ছেলে। পুলিশ জানায়, তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত ছয়টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এসব মামলায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বারবার তার নাম উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার ভূমিকা যাচাই করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর আগারগাঁও পানির ট্যাংকির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে তার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে।
এদিন দুপুরে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই যুবলীগ নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত ছাত্রদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, ‘আহমেদ ফয়সাল নাঈম তুর্যের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’










