ঢাকার সাভার থানার দক্ষিণ রাজাসন এলাকায় এক শিক্ষার্থীর মায়ের জানাজার সময় সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার পৌরসভার দক্ষিণ রাজাসন ঘাসমহল এলাকার আলবেদা বাইতুন নূর জামে মসজিদসংলগ্ন সামাজিক কবরস্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ রাজাসন এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন গোলদারের মা আমিরুন নেছা শনিবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। রাত ৯টার দিকে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের পর দোয়া চলাকালে পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি কবরস্থানে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, হাতুড়ি ও জিআই পাইপ নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল হামলায় অংশ নেয়। এতে ইমরান গোলদারের ছেলে নাহিদ ইসলাম ইমন (২২) গুরুতর আহত হন। তার মাথা, মুখমণ্ডল ও বুকে আঘাত করা হয়। একই ঘটনায় ইমরানের ভাতিজা রিয়াদুল ইসলাম (১৭) ও ইমরান নিজেও আহত হন।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নাহিদ ইসলাম ইমনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, হামলার পর পালানোর সময় এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আল-আমিন হোসেন আলভী (১৯), মো. তরিকুল ইসলাম (১৯), আবু হানিফ বিশু (২৩) ও মো. সামির (১৭)। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদক সেবন সংক্রান্ত একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হামলার সূত্রপাত। বিষয়টি নিয়ে পূর্ব শত্রুতাও ছিল।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে










