সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগ্রামে শিশু অপহরণকারী সন্দেহে আটক হন এক যুবক। পরে জানা যায়, তিনি নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রিয়াজ বাহিনীর প্রধান রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ‘শুটার রিয়াজ’।
বুধবার বিকেল চারটার দিকে রিয়াজুল গাড়িতে করে তাঁর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে আলীরগ্রামে প্রবেশ করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে অনুসরণ করছিল। পরিস্থিতি আঁচ করে তিনি একটি বাড়ির বারান্দায় দুই শিশুকে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে গ্রামবাসীর সন্দেহ হয় এবং তাঁকে শিশু অপহরণকারী ভেবে ধাওয়া করে আটক করে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিয়াজুল, তাঁর দুই শিশু ও গাড়ি উদ্ধার করে।
পরে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানা যায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী জানান, প্রথমে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি মনে হলেও পরে স্পষ্ট হয়, রিয়াজুলকে র্যাব ধাওয়া করছিল। তিনি র্যাবের হাত থেকে বাঁচতে গ্রামে প্রবেশ করে শিশুদের ফেলে পালাতে চেষ্টা করেছিলেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে রিয়াজুলের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকি এড়িয়ে প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়ে যান। তখন তাঁর পরিচয় নিশ্চিত না হলেও পুলিশ গাড়ির সন্ধান করছিল। আটক ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
র্যাবের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রিয়াজুল। তখনই জানানো হয়েছিল, তিনি হত্যাসহ ১৫ মামলার আসামি। তিনি অন্তত ১৫টি সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর সহযোগীরা বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত।
তাঁদের অপরাধের মধ্যে ছিল জমি দখল, অবৈধ বালু ভরাট, মাটি কাটার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও মাদক ব্যবসা।









