হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির সঙ্গে রাজনৈতিক কোরবানির তুলনা করে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ও রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী এটিএম আজম খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এটিএম আজম খান ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর আগে, গত ৮ জানুয়ারি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বিতর্কিত বক্তব্যটি দেন। ওই সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় এক মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে এটিএম আজম খানকে বলতে শোনা যায়, ‘গত ২৮ তারিখ সকাল সাড়ে ছয়টায় কেন্দ্র থেকে আমাকে মোবাইল করা হয়। বলা হয়, খান সাহেব আপনাকে কোরবানি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি তখন বলেছিলাম, এই কোরবানি কি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির মতো? উত্তরে বলা হয়, হ্যাঁ, এর চেয়েও বড়।’
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, তিনি ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর পুত্রকে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত মানুষ কোরবানি হয়নি, দুম্বা কোরবানি হয়েছে। আর আপনার কোরবানি বলতে পীরগাছা–কাউনিয়ার লাখ লাখ মানুষের কোরবানি। এজন্য এটাকে বড় বলা হয়েছে।’
এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমালোচনার মুখে পরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এটিএম আজম খান বলেন, পীরগাছায় আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দলের এক ঊর্ধ্বতন নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করার সময় অনভিপ্রেত ও অসতর্ক শব্দচয়ন ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি তাঁর ‘স্লিপ অব টাং’ থেকে হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তিনি কোনোভাবেই তুলনামূলক বক্তব্য দিতে চাননি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির ঘটনা ইসলামের অতুলনীয় ত্যাগের দৃষ্টান্ত। এর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা করা তাঁর বিশ্বাস ও আকিদার পরিপন্থী। তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তাঁর বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এটিএম আজম খান রংপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির জোটগত সমঝোতার কারণে ওই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়েছেন।










