ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার একটি মসজিদে ‘ইমাম’ পরিচয়ে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচারণা চালানোর অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রায় আট মাস ধরে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওই দুজনের নামে গোপনে ধর্মীয় প্রচারণার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আটক দুজনের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের মাইঝাইল পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মসজিদে ইমামদের আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম বিষয়টি স্থানীয় ইমাম, মসজিদ কমিটির সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
মসজিদ কমিটির সহসভাপতি আইয়ুব আলী বেপারী জানান, অভিযোগের পর ইমামদের থাকার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়।
সেখানে খ্রিস্টান ধর্মসংক্রান্ত লিফলেট, কাগজপত্র ও যিশু খ্রিস্ট সম্পর্কিত বই পাওয়া যায়। এসব আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ভাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই দুজনকে আটক করে।
আটকরা হলেন- বাগেরহাট জেলার ডুবাতলা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে সরোয়ার হোসেন (৪৫) ও মনির খা এলাকার রস্তুম আলীর ছেলে মো. হাবিব উল্লাহ (৪৫)।
এ বিষয়ে মুফতি শফিকুল ইসলাম বলেন, পাশের মসজিদের ইমাম হাবিবুল্লাহ তাকে বিভিন্ন সময় অর্থ, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয়দের জানিয়ে তাকে আটক করতে সহায়তা করেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, মাইঝাইল এলাকার একটি মসজিদ থেকে অন্য ধর্মের প্রচারণামূলক লিফলেট ও বইসহ দুজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে, তারা কিছু সুযোগ-সুবিধার লোভে পড়ে খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার-প্রচারণায় জড়িত ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।










