| | |

গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলাকেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। মরদেহগুলোর ওপর পাওয়া গেছে ৫টি কম্পিউটারে টাইপ করা অভিযোগপত্র। সবগুলোই একই অভিযোগের কপি। যা গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা ছিল।

সেই অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে কি না বা দিলেও গ্রহণ করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান।

নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।

মরদেহগুলোর ওপর রাখা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী শারমিন খানম স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন। এছাড়া তিনি খালাতো ভাই রাজুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। জানাজানি হওয়ার পর দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। ৩ মে স্ত্রী শারমিন খানম ও তার প্রেমিক রাজু আহমেদ স্বামী ফোরকানকে বেধড়ক মারধর করেন।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার চালক পলাতক স্বামী ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেয়ে মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিহা (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়ার (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ঘাতক পলাতক ফোরকান মিয়ার গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটকদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

মরদেহ দেখতে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিন সন্তানের গলা কাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

প্রতিবেশীরা জানান, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। ওই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম বলেন, ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে এ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted