সোমবার | ২৫ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৭

চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার তেবাড়িয়া এলাকায় এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোনার গয়না চুরির অভিযোগে তাঁকে এভাবে নির্যাতন করা হয়। সোমবার সকাল থেকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরের বয়স ১৫ বছর। তিনি চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর বাবা মৃত।

অভিযোগ উঠেছে, সৌদি প্রবাসী মাজেদ প্রামাণিক (পিতা: নিজাম প্রামাণিক, গ্রাম: চড়াইকোল বোর্ড অফিসপাড়া) কিশোরকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে লাঠি ভেঙে গেলে তিনি ইট দিয়ে আঘাত করার জন্য তেড়ে যান। এ সময় কিশোরের মা কাঁদতে কাঁদতে সন্তানকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে মাজেদের ছেলের সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওই কিশোর তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই দিন মাজেদের স্ত্রী রুমা খাতুনের প্রায় ১০–১২ লাখ টাকার সোনার গয়না চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মাজেদ ও তাঁর লোকজন কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন। পরদিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ২৩ আগস্ট সকালে কিশোরের বাড়িতে গিয়ে ফের লাঠি দিয়ে মারধর করেন মাজেদ।

কিশোরের মা জানান, “মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে কয়েক দফা আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে মাজেদ। আমাকে গলাও টিপে ধরে মেরেছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখন অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।”

তবে অভিযুক্তের ভাই মাসুম প্রামাণিক দাবি করেন, কিশোর গয়না চুরির বিষয়টি কয়েকবার স্বীকার করলেও ফেরত দেয়নি। মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, উভয় পক্ষই আত্মীয়; বসে সমাধান করা হবে।

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল কেটে দেন। তবে থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরের মা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031