ঢাকার সাভারে একদিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে বনগাঁও ইউনিয়নের পাছ বনগ্রাম এলাকায় এবং বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী পাঁচগাছিয়া মহল্লার একটি ভাড়াবাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা দুটি ঘটে।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনার ভুক্তভোগী শিশুটি বনগ্রাম এলাকার একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে স্থানীয় একটি মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানি শাহজাহান (৬০) তাকে বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে টেনে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
স্কুল ছুটির পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার চাচাকে বিস্তারিত জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত শাহজাহানকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। গ্রেফতার শাহজাহান ঢাকা জেলার দোহার থানার সুতারপাড়া গ্রামের মৃত ইরফান আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুদি দোকান চালাতেন।
এদিকে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নে প্রতিবেশী ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাক (৬৯) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আব্দুর রাজ্জাক পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার কেশবপুর বাজেমহল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সাভারে পৃথক দুটি শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত মূল দুই অভিযুক্তকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগী এক শিশুকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে এবং অন্য ঘটনার বিষয়েও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”










