চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ‘অসামাজিক কার্যকলাপের’ অভিযোগে এক নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে তার চুল কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ওই নারীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে জনতা।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে রহনপুর পৌর এলাকার হুজরাপুর গ্রামে।
খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। একই সময় ফায়ার সার্ভিসের একট দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে রাতেই বাড়িঘর ভাঙচুর ও লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়েছে স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হুজরাপুর এলাকার বাসিন্দা এক নারী দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে দেহব্যবসা ও মাদক কারবারের মতো অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন। এই বিষয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে একাধিকবার সতর্কও করেছিলেন। কিন্তু বারবার সতর্ক করার পরেও ওই নারীর বাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে থাকায় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর কতিপয় স্থানীয় ব্যক্তি জোটবদ্ধ হয়ে গভীর রাতে ওই বাড়িতে হামলা চালান। হামলায় বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্র এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা কেবল ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে ওই নারীকে জনসমক্ষে লাঞ্ছিত করা হয়।
ওই নারীর বড় ছেলে বলেন, ‘স্থানীয় ছেলেরা চক্রান্ত করে এটা ঘটিয়েছে। তাকে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে অত্যাচার করে। এ সময় বাড়িতে হামলা চালিয়ে সোনা, টাকা, বাড়ির দলিল লুট করে। পাশাপাশি বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।’
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে মাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াদুদ আলম জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে ওই নারীকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে তাকে তার ছেলে-মেয়েদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর আগুন দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ওই নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় এবং তার চুল কেটে দেয়। একই সঙ্গে ওই নারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় এখনও কেউই কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে বিকেলে এলাকাবাসীর ব্যানারে মাদক বিক্রি ও পতিতাবৃত্তি বন্ধসহ ওই নারীর শাস্তির দাবিতে চার গ্রামের মানুষ মানববন্ধন করেছে।










