ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
শিল্প মালিকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিংয়ের সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেল সংকটে পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। এতে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেশনিং পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিল্পকারখানার ধরন অনুযায়ী দৈনিক জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের সংকটে পড়বে এই খাত।
একটি পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম বলেন, সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বায়ারদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে না, ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ইতোমধ্যে উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে পোশাক কারখানার কর্মকর্তা হাজী মনজুরুল ইসলাম বলেন, ডিজেল সংকট এখন চরমে। জেনারেটর চালাতে ঘণ্টায় ৩০-৫০ লিটার তেল প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫-২০ লিটার। ফলে লোডশেডিং বেশি থাকলে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্পকারখানার চেয়ারম্যান জানান, তেল সংগ্রহে তিন-চার দিন আগেই সিরিয়াল দিতে হচ্ছে। অনেক সময় তেল না পেয়ে বিকল্প ফিলিং স্টেশন ঘুরতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের উৎপাদন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে মেসার্স কবিরপুর ফিলিং স্টেশন-এর ম্যানেজার মো. আতোয়ার রহমান বলেন, ডিপো থেকে তেল কম আসায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চিত।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাভার উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে অবৈধ মজুত ঠেকাতে ও তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।










