নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে মামলার হাজিরা দিতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন এক ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাদী ইরফান মিয়া, তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং দুই ছেলে জিদান (১৮) ও আবদুল্লাহ (৫)। তাঁরা নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা এই হামলা চালান।
আহত ইরফান মিয়া স্থানীয়ভাবে স্যানিটারি পণ্যের ব্যবসায়ী। তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে সাখাওয়াত হোসেন ছাড়াও তাঁর ল ফার্মের জুনিয়র আইনজীবী খোরশেদ আলম, আল-আমিন এবং সহকারী (মুহুরি) হিরণ বাদশাকে আসামি করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ইরফান মিয়া ব্যবসায়িক কারণে ইসমাইল নামে এক ব্যক্তির কাছে ২৫ লাখ টাকা পান। প্রায় এক বছর পার হলেও ইসমাইল টাকা পরিশোধ করেননি এবং উল্টো হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় ইরফান মিয়া কয়েক মাস আগে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ঐ মামলায় সাখাওয়াত হোসেন খান ইসমাইলের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, আদালতে হাজিরার জন্য ইরফান মিয়া ও তাঁর পরিবার উপস্থিত হলে সাখাওয়াত হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের আদালত থেকে চলে যেতে বলেন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সাখাওয়াতের নির্দেশে তাঁর অনুসারী আইনজীবী ও সহকারীরা বাদীপক্ষের ওপর হামলা চালান।
এই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইরফান মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার সময় খোরশেদ আলম, আল-আমিন ও হিরণ বাদশা উপস্থিত ছিলেন।
ইরফানের ছেলে জিদান বলেন, “আমার বাবাকে দেখেই সাখাওয়াত হোসেন হুমকি দিতে শুরু করেন। পরে তাঁর নির্দেশে জুনিয়র আইনজীবীরা আমাদের ওপর হামলা চালান। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমি একজন পেশাদার বক্সার, হামলায় মাথায় আঘাত পেয়েছি—এতে আমার ক্যারিয়ার নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
অভিযুক্ত আইনজীবী আল-আমিন বলেন, “আমাদের মুহুরিকে কয়েকজন মারধর করছিলেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ধস্তাধস্তি হয়েছে, কিন্তু ইচ্ছাকৃত কোনো হামলা হয়নি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সাখাওয়াত হোসেন খান সন্ধ্যায় বলেন, “ভিডিওতে আমাকে দেখা যাচ্ছে না। যাঁরা আছে তাঁরা আমার পরিচিত হতে পারেন, কিন্তু আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী, আমাকে বিতর্কিত করতে একদল মানুষ এ ঘটনায় আমার নাম জড়াচ্ছে।”










