রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও নির্ধারণী ম্যাচে ২৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ২৭৯ রানে অলআউট হয়। ফলে বাংলাদেশ ১১ রানের জয় পায়।
এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নয় নম্বরে উঠে এসেছে। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সিরিজ জয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান প্রথম তিন উইকেট মাত্র ১৭ রানে হারায়। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে শুরুতেই টপ-অর্ডার ভেঙে যায়। চতুর্থ উইকেটে গাজী ঘুরি ও আব্দুল সামাদ ৫০ রান যোগ করলেও পরের ওভারেই দুজনই আউট হন।
সালমান আলি আগা দলের হাল ধরে ৯৮ বলে ১০৬ রান করেন। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে জয় এনে দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৩৭ রান করা শাহীন স্টাম্পড আউট হলে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৯ রানে।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৪ উইকেট নেন, মুস্তাফিজুর রহমান ৩টি, নাহিদ রানা ২টি এবং রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট নেন।
এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে তারা যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। ৩৯ বলে ২৯ রানে ঘুরি এবং ৪৫ বলে ৩৪ রানে সামাদ আউট হন।
বিপদের মধ্যে দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা, তিনি একা দলের স্কোরকে ৭৯ রানে টেনে নেন। তাকে সঙ্গ দেন সাদ মাসুদ। তবে মুস্তাফিজুর রহমানের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে সাদ মাসুদ ৩৮ রানে আউট হন। ফাহিম আশরাফও চেষ্টার পর মাত্র ৯ রানে আউট হন তাসকিনের বলে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে তাসকিন আহমেদ চারটি উইকেট নেন।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি বাংলাদেশকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশ উড়ন্ত সূচনা নিয়ে ইনিংস শুরু করে। ওপেনার সাইফউদ্দিন ও তানজিদ হাসান তামিম ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে দলকে ভালো সূচনায় নিয়ে যান। বিশেষ করে তানজিদ তামিম একপ্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকান। ১০৭ বলে ১০৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনি বিদায় নেন, যার মধ্যে ছিল ৬ ছক্কা ও ৭ চার।
লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে ২৯০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান। লিটন ৪১ এবং তাওহীদ অপরাজিত ৪৮ রানে ইনিংস শেষ করেন। আফিফ হোসেনও ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।










