খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে টানা তিন মাস ধরে। সরবরাহ প্রচুর থাকা সত্ত্বেও খাদ্যের দাম কমেনি বাজারে। খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.১৩ শতাংশ হয়েছে, যা নভেম্বরের ৯.০৮ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। যদিও বছরভিত্তিক হিসাব করলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে; গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এ হার ছিল ৯.২৬ শতাংশ।
গ্রাম এবং শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বর মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশ, যা নভেম্বরের ৮.২৬ শতাংশের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরে এই হার ৮.৩৯ শতাংশ থেকে ৮.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ কিছুটা বেশি।
মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনে কার্যত এক ধরনের অদৃশ্য করের মতো প্রভাব ফেলে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে যে পণ্য ও সেবা কিনতে ১০০ টাকা খরচ হতো, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সেই একই পণ্য কিনতে খরচ হয়েছে ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় ব্যয় বেড়েছে আট টাকা ৪৯ পয়সা। কোনো পরিবারের এক বছর আগে মাসিক খরচ যদি এক লাখ টাকা হতো, তাহলে এখন গড়ে প্রায় আট হাজার ৪৯০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে সীমিত আয়ের ও গরিব মানুষের ওপর।
ডিসেম্বর মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৭ শতাংশ, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতির ৮.৪৯ শতাংশের তুলনায় কম। ফলে মানুষের আয় যতটা বাড়ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ আরো তীব্র হচ্ছে।
তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭৭ শতাংশ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বৃদ্ধি, তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ নিত্যপণ্যের শুল্ক ও কর কমানো, আমদানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু দাম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়িয়েছে। চাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে কমেনি, ফলে গরিব ও মধ্যবিত্তদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।










