ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট-১ আসনের হাতীবান্ধা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কাসাইটারী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমান উল্লা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর কর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধানের এক কর্মীর বাড়ির সামনে গেলে সেখানে বাধার মুখে পড়েন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল ও লাঠির আঘাতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পাশাপাশি চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু অভিযোগ করে বলেন, তাদের নারী কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালানোর সময় হামলার শিকার হন। এতে তার দলের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াতের কর্মীরাই প্রথম তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমান উল্লা বলেন, “নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”
এদিকে পাটগ্রামে একটি নির্বাচনি কর্মশালা শেষে ফেরার পথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার এবং লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।










