ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় তাজমিনা খাতুন (২৫) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তিনটি গার্মেন্টস কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
জানা গেছে, গিল্ডেন অ্যাক্টিভ ওয়্যার বিডি লিমিটেড কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা সকালে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে নামেন। পরে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলনে যোগ দেন জামগড়ার গিল্ডেন গার্মেন্টস লিমিটেড ও নয়ারহাটের এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল কারখানার শ্রমিকরাও। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ তিনটি কারখানাতেই এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
তাজমিনা খাতুন এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সহকর্মীরা অভিযোগ করেন, অসুস্থ হয়ে বারবার ছুটি ও চিকিৎসা সহায়তা চাইলেও কর্তৃপক্ষ তা প্রদান করেনি। পরে সহকর্মীরা নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গেলে তাতেও বাধা দেওয়া হয়। অবশেষে অবস্থার অবনতি হলে তাজমিনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলেন, “একজন অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা অমানবিকতার চূড়ান্ত উদাহরণ। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে।” তারা দাবি করেন, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত বিদেশি কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন।
তারা দ্রুত দায়ীদের শাস্তি ও একটি শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ার করেন—যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের সুপার মমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।”










