জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ ) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং পরে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি পবিত্রতম স্থান। এখানে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
তিনি বলেন, গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর সন্তানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
স্পিকার আরও বলেন, তিনি নিজেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং জিয়াউর রহমানের অধীনে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। যুদ্ধে তিনি আহতও হন।
গত ১৭ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী, ছাত্র, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে স্পিকার বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সংসদ মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জাতীয় সংসদে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দল সংসদে যথেষ্ট সুযোগ পাবে এবং সংসদ পরিচালনায় তিনি ক্রিকেটের আম্পায়ারের মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন।
এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা শেরে-বাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর আহ্বানে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই অধিবেশনে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।










