একজন জুলাইযোদ্ধাকে লাঞ্ছনার ঘটনায় উদ্ভূত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরিবহন শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ইউনাইটেড সার্ভিস ও সৌখিন পরিবহনের বাস চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে হালুয়াঘাটের জুলাইযোদ্ধা আবু রায়হান ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে ওঠার সময় পরিবহন শ্রমিক অরুণ ঝন্টুর সঙ্গে ধাক্কা লাগলে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। রায়হান নিজের পরিচয় দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও অশালীন আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ময়মনসিংহের মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে ইউনাইটেড সার্ভিসের কাউন্টারের সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে অভিযুক্ত শ্রমিককে আটক করে পুলিশ।
জবাবে শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে পরিবহন শ্রমিকরা ময়মনসিংহ বাইপাস সড়কে অবরোধ শুরু করেন। এতে ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও জামালপুর থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে আগত সব বাস আটকে পড়ে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট ও যাত্রী দুর্ভোগ।
আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল: অভিযুক্তদের বিচার; জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ সাগর হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক শামীমের মালিকানাধীন ইউনাইটেড পরিবহনের সব বাস বন্ধ; অভিযুক্ত ম্যানেজারকে প্রত্যাহার; জড়িতদের চাকরিচ্যুতি।
অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি ছিল আটক সহকর্মীর মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
পরে বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পরিবহন নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, আমিনুল হক শামীমের ১৬টি বাস চলাচল বন্ধ থাকবে এবং একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। এর পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে উভয়পক্ষ অবরোধ তুলে নেয়।
তবে এর পরও ঢাকার সিদ্ধান্তে ইউনাইটেড ও সৌখিন পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ আলম। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ঢাকার সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে।
ইউনাইটেড পরিবহনের এক চালক জানান, “শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মালিকপক্ষ বাস চালাতে নিষেধ করেছেন।”
জুলাইযোদ্ধা আবু রায়হান জানান, “আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। তবে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়লে আমরা বসে থাকব না।”










