| | |

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ঢাকা-১৯ আসনে ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, নির্বাচনী মাঠে বাড়ছে উত্তাপ

নাজমুল হুদা

বাঁ থেকে মো. আফজাল হোসাইন, দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, দিলশানা পারুল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯ জন প্রার্থী বৈধতা পান। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. কামরুলের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় স্থগিত রাখা হলে তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা ও প্রচার তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে।

তপশিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্নভাবে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয়দের মতে, ভোটারদের কাছে পরিচিতি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।

স্থানীয় ভোটাররা জানান, ভোটার উপস্থিতির হার এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোট কোন দিকে যাবে, তা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটভুক্ত দলগুলোর আসন সমঝোতা ও শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা চলছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সাভার তৎকালীন ঢাকা-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ঢাকা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আফজাল হোসাইন। দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে তার সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে শেষ দিনে দলের সদস্য দিলশানা পারুল মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তা দাখিল করেননি। এছাড়া ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমা দেননি।

এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, জোটের প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তিনি বলেন, নারী প্রার্থী হিসেবে নারী ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন।

জামায়াত প্রার্থী মো. আফজাল হোসাইন বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবিচার ও নিপীড়নের শিকার। জনগণ পরিবর্তন চায়। তিনি দাবি করেন, ভিন্ন ধর্মের মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। তিনি দাবি করেন, বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েননি।

তিনি আরও বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে সাভার-আশুলিয়ার মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা তার সঙ্গে রয়েছে। নির্বাচিত হলে একটি ক্লিন ও মডেল সাভার গড়তে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলমুক্ত এলাকা উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ