| | |

দিনে বিউটি পার্লারের ব্যবসা, রাতে মাদক সম্রাজ্ঞী

সাভার ডেস্ক

দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি সাধারণ বিউটি পার্লার। দিনের বেলায় সেখানে চলত সাজগোজের ব্যবসা, আর রাত নামলেই বদলে যেত চিত্র। পুলিশ বলছে, ওই পারলারই ছিল মাদক ও অস্ত্র কারবারের আড়াল। সেই পারলারের মালিক খুশনুমা আনসারি ওরফে নেহা, যিনি অপরাধ জগতে পরিচিত ছিলেন ম্যাডাম জেহের নামে, এখন পুলিশের হাতে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে লরেন্স বিষ্ণোই, হাশিম বাবা গ্যাংয়ের একটি বড় সিন্ডিকেটকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন খুশনুমা আনসারি ওরফে নেহা এবং তার সঙ্গী শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী ববি কবুতর ওরফে মাহফুজ।

ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন নেহা। দিনে তিনি বিউটি পারলার পরিচালনা করলেও রাতে ম্যাডাম জেহের নামে গ্যাংয়ের অবৈধ কর্মকাণ্ড সামলাতেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ববি কবুতর ছিলেন গ্যাংয়ের অন্যতম অস্ত্র সরবরাহকারী।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ববি কবুতর এই অপরাধী চক্রের রসদ সরবরাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ভারতের কুখ্যাত অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেলিম পিস্তলের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করতেন।

এই সিন্ডিকেটের সরবরাহ করা অস্ত্র ভারতের বেশ কয়েকটি আলোচিত অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এর মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ড, বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণ, দিল্লিতে নাদির শাহ হত্যা মামলা, সিলামপুর ডাবল মার্ডার মামলা।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য মিলেছে। ববি কবুতরই মুসেওয়ালার গতিবিধি ও যাতায়াতের পথ রেকি করার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি গায়কের রুট ট্র্যাক করে সেই তথ্য শুটারদের কাছে পৌঁছে দেন। এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত অন্য গ্যাংস্টার শাহরুখের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কয়েক মাস ধরে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন তিনি।

তদন্তকারীরা বলছেন, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ে বর্তমানে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা বাড়ছে। নেহা ছিলেন এই সিন্ডিকেটের তৃতীয় লেডি ডন। এর আগে দীপা এবং গ্যাংস্টার হাশিম বাবার স্ত্রী জয়া খানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। নেহা ও ববি সাত বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছিলেন।

টেকনিক্যাল সার্ভিল্যান্স ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির মহিপালপুর ফ্লাইওভারের কাছ থেকে নেহা, ববি এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় নেহার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গ্যাংয়ের আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজন এনসিআর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্লিপার সেলগুলোর হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে স্পেশাল সেল।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ