বুধবার | ৪ মার্চ, ২০২৬ | ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৪ রমজান, ১৪৪৭

পূজায় এবারও ভারতে যাবে ১২শ টন ইলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ছয় বছর ধরে দুর্গাপূজার আগে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি করে আসছে। এবারও ভারতে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ মাছ রপ্তানির জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। তার আগে ভারতীয়রা পাচ্ছেন বাংলাদেশের ইলিশ।

সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ইলিশ রপ্তানির তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জাতীয় রপ্তানি নীতিতে (২০১৫-১৮) ইলিশ মাছ শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় রাখা হয়। পরের দুটো রপ্তানি নীতিতেও তা একই রকম রাখা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবছরের ন্যায় চলতি ২০২৫ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে শর্তসাপেক্ষে রপ্তানির জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সে আলোকে আগ্রহী রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ অফিস চলাকালীন হার্ড কপিতে আবেদন আহবান করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ইআরসি, আয়কর সার্টিফিকেট, ভ্যাট সার্টিফিকেট, বিক্রয় চুক্তিপত্র, মৎস্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করতে হবে। প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ১২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার সরকারের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইতোমধ্যে যারা আহবান ব্যতিরেকেই আবেদন করেছেন, তাদেরও নতুনভাবে আবেদন দাখিল করতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনীয় কার্যার্থে ও অবগতির জন্য এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি হয়েছে, তা মোট উৎপাদনের মাত্র শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ।

এ ছাড়া সরকার যে পরিমাণ রপ্তানির অনুমোদন দেয়, তার কম ইলিশ যায় ভারতে। যেমন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বছর ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৯৫০ টনের অনুমতি দিলেও বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সব মিলিয়ে ইলিশ রপ্তানি হয় প্রায় ৮০২ টন।

ইলিশ রপ্তানির প্রথম অনুমতি দেওয়া হয় ২০১৯ সালে। সেবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতি কেজি ইলিশ ছয় ডলার (বাংলাদেশের ৫০৭ টাকা) দরে প্রথম তিন চালান পাঠানো হয়েছিল। পরে অবশ্য তা প্রতি কেজি ১০ ডলারে উন্নীত হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৭৬ টন বা চার লাখ ৭৬ হাজার কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়। এতে আয় হয় সাড়ে ৩৯ লাখ ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৯৯ টন ইলিশ রপ্তানি করে আয় হয় ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। তখন প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ১০, ৬ ও ৮ ডলার দামে রপ্তানি হয়।

২০২১-২২ অর্থবছরে এক হাজার ২৩০ টন রপ্তানি করে আয় হয় এক কোটি ২৪ লাখ ডলার। প্রতি কেজির রপ্তানি মূল্য ছিল ১০ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এক হাজার ৩৯১ টন ইলিশ রপ্তানি করে আয় হয় এক কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০২ টন ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৮০ লাখ ডলার। তখন প্রতি কেজি ইলিশ মাছের রপ্তানি মূল্য ছিল ১০ ডলার বা ১ হাজার ৯৮ টাকা।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    3031