রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আম্মারসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহত অবস্থায় আরও অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পাল্টা হিসেবে আন্দোলনকারীদের ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন। পরে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে ইনকিলাব মঞ্চ যমুনার সামনে অবস্থান নেয়। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়।
এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সকাল থেকে পুলিশ একাধিকবার লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদেরও ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরে দুপুরের দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদেরও বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হলে তা আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।










