জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ নামে পোষ্য কোটা ফেরানোর প্রতিবাদে অবস্থান, স্থগিত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) স্নাতক (সম্মান) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ নামে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি পোষ্য কোটাকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে আমরণ গণ-অনশন শুরু করেন ১৪ জন শিক্ষার্থী। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর উপাচার্যের আশ্বাসে তাঁরা অনশন ভাঙেন। সেদিন রাতেই পোষ্য কোটায় ভর্তির বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে ৪০টি আসনে ভর্তি, কেবল সংশ্লিষ্টদের সন্তানের ক্ষেত্রে সুবিধা এবং পাস নম্বর ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৪ ফেব্রুয়ারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের সাঁটানো পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে উপাচার্য পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণা করেন। তবে ক্যাম্পাসে চাকরিজীবীদের বিষয় বিবেচনায় ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ থাকবে বলে জানান।
এরপর সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’র আওতায় ভর্তির আবেদন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ করা যাবে। আবেদনকারীদের অফিস প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের ফটোকপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষা শাখায় জমা দিতে হবে। এ সুবিধার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঔরসজাত বা গর্ভজাত সন্তানরা বিবেচিত হবেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাব্বি হাসান বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন করে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’র নামে পোষ্য কোটা পুনর্বহাল করেছে, যা তাঁরা মেনে নেবেন না।
জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পোষ্য কোটা বাতিল করা হলেও পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে সেটি নতুন নামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হবে, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগেই ছিল, সেটি সোমবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।










