ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছে ২০০২ সালে। সেই দলের সদস্য রোনাল্ডো, কাফু, রবার্তো কার্লোস, কাকা, রিভালদো। ১৯৯৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির সদস্য বেবেতো। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এই ছয় তারকা এখন যুক্তরাষ্ট্রে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা দেখছেন। কার্লোস অ্যানচেলোত্তির দলের পেছন পেছন শহর থেকে শহরে যাচ্ছেন। ফুটবলারদের অনুশীলনে উপস্থিত থাকছেন। হোটেলে উপস্থিত হয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন। সেলেসাওদের আরও দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রোনালদিনহো ও রোমারিও এখন যুক্তরাষ্ট্রে। ব্যক্তিগতভাবে সময় পার করছেন রোনালদিনহো। অবশ্য তারই ফাঁকে ফাঁকে সাহস জোগাচ্ছেন অ্যানচেলোত্তির শিষ্যদের। রোমারিও এসেছেন বিশ্লেষক হিসেবে। তিনিও মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলা দেখে উৎসাহিত করছেন। এসব তারকা সবাই নেইমার, ভিনিসাস, কুনহা, রাফিনহা, কাসিমিরো, রায়ান, দানিলোদের সঙ্গে কথা বলছেন। পিঠ চাপড়ে সাহস জোগাচ্ছেন, হেক্সা জয়ের।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যে হোটেলে উঠেছেন, সেই হোটেলে উপস্থিত হয়ে ‘দ্য ফেনোমেনোন’ রোনাল্ডো ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে বিশ্বকাপ জয়ের মন্ত্র বলে দিয়েছেন প্রিয় দলের ফুটবলারদের। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ জিততে ব্রাজিলকে আজ জাপানের কঠিন হার্ডল টপকাতে হবে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে সেরা ১৬-তে ওঠার লড়াইয়ে মুখামুখি হবে বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল ও এশিয়ার ফুটবলের পরাশক্তি জাপান।
ফিটনেস ঝামেলায় প্রথম দুই ম্যাচ খেলেননি নেইমার। মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেছেন ভিনিসাস, কুনহাদের। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৮১ দিন পর মাঠে ফেরেন। প্রায় আধঘণ্টা খেলেছেন। বল পাস দিয়েছেন ১৩টি। ১২টিই যার সঠিক। এর মধ্যে কর্নার, ফ্রি কিক নেওয়ার পাশাপাশি গোলবারেও একটি শট নেন। আধাঘণ্টার উপস্থিতিতেই বুঝিয়ে দেন নেইমার, তিনি প্রস্তুত। জাপান ম্যাচে আজ শুরু থেকেই নেইমারকে খেলানোর পরিকল্পনা কোচ অ্যানচোলোত্তির। দারুণ ছন্দে রয়েছেন রিয়াল তারকা ভিনিসাস। যিনি গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন। তার গোল ৪টি। তিন ম্যাচে টানা গোল করায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের। ইতিহাসও সেটাই বলছে। ১৯৭০ সালে জায়ারজিনহো টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ১৯৯৪ সালে টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন রোমারিও। সেবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা। ২০০২ সালে টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন রিভালদো ও রোনাল্ডো। সেবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল ৬, জাপান ২৮। শুধু র্যাঙ্কিং নয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যেও এগিয়ে ব্রাজিল। একমাত্র দল হিসেবে ২৩ বিশ্বকাপের সবগুলো আসরে খেলছে সেলেসাওরা। সবচেয়ে বেশি ২০ বার নক আউট পর্বে খেলেছে। দুই দেশ পরস্পরের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত খেলেছে ১৪ বার। ব্রাজিলের ১১ জয়ের বিপরীতে জাপানের জয় একবার। সেটা আবার দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখিতে। ড্র ২ ম্যাচ। ২০২৫ সালে কিরিন কাপে ব্রাজিলকে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। ওই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ হিউস্টনে নামছে হাজিমে মরিয়াসুর দল। দলটির ৩৯ বছর বয়সি ইউতো নাগাতোমে এশিয়ার প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ৫টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি জাপান গ্রুপ ‘এ’ থেকে নকআউট পর্বে খেলছে দ্বিতীয় হয়ে।
ম্যাচে কোন দল জিতবে? নক আউট পর্ব বলে চাপে থাকবে দুই দল। যে দল হারবে বিদায় নেবে। জয়ী দল রাউন্ড অব সিক্সটিনে খেলবে আইভরিকোস্ট-নরওয়ে জয়ী দলের বিপক্ষে। পরিষ্কারভাবেই ম্যাচে ব্রাজিল ফেবারিট। সুপার কম্পিউটার বলছে, ৯০ মিনিট খেলা হলে ব্রাজিলের জেতার সম্ভাবনা ৫৭.৩ থেকে ৫৭.৭ শতাংশ। জাপানের সম্ভাবনা ১৮ থেকে ১৯.৭ শতাংশ। সুপার কম্পিউটার জানাচ্ছে, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। তখন কি টাইব্রেকারে গড়াবে ম্যাচ?









