| | |

‘লিভ ইন’ সন্দেহে দম্পতির বাসায় শিক্ষার্থীদের হামলার চেষ্টা

নাজমুল হুদা

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক বিবাহিত দম্পতির ভাড়া বাসায় ‘লিভ ইন’ সম্পর্কে থাকার সন্দেহে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী হামলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাসার দরজায় ধাক্কাধাক্কি, লাথি ও গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ওই দম্পতি বাসায় না থাকায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সময় ৫-৬ জনের একটি দল বাসায় গিয়ে তাদের খোঁজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দরজায় লাথি ও ধাক্কাধাক্কি করেন এবং বাসায় থাকা নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ওই সময় ফ্ল্যাটের অন্য কক্ষে দুই নারী শিক্ষার্থী ও একজনের মা অবস্থান করছিলেন।

ভুক্তভোগী স্বামীর দাবি, ঘটনার একটি ভিডিওতে হামলাকারীদের একজনের পরনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো এবং ‘শিপন’ লেখা জার্সি দেখা গেছে। গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানও হামলায় অংশ নেওয়া চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

ভুক্তভোগী স্বামী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত এবং তার স্ত্রীও আগে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্তের শিকার হওয়ার পর তার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়টি ছেড়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। বর্তমানে তারা নলাম এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের সঙ্গে আরও দুই নারী শিক্ষার্থী থাকেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাজারে ছিলাম। এ সুযোগে কয়েকজন বাসায় গিয়ে দরজায় লাথি ও ধাক্কাধাক্কি করেন এবং বাসায় থাকা নারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ভিডিও দেখে শিপন নামের একজনকে শনাক্ত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন বাসায় ছিলাম না। আমাকে পেলে হয়তো মারধর করত। ঘটনার পুরো ভিডিও ও অডিও আমার কাছে আছে। এ ঘটনায় আমি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।’

তবে শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তার দাবি, ওই বাসায় তিন নারী ও একজন পুরুষ ‘লিভ ইন’ সম্পর্কে বসবাস করছেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েছিলেন। এছাড়া ওই বাসাকে কেন্দ্র করে আগে চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ‘তারা বলেছে, এলাকায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। একটি বাড়িতে তিনজন মেয়ে ও একজন ছেলে লিভ ইন সম্পর্কে থাকে। এ বিষয়টি জানতে তারা সেখানে গিয়েছিল।’

তবে শিক্ষার্থীরা কাউকে মারধরের উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা শুধু ডাকাডাকি করেছেন।’ বাসা ভাঙচুরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সোমবার শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শিক্ষার্থীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ