ঢাকার সাভার প্রতিনিধি: সাভারে পুলিশের ধাওয়ার মুখে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (৩০) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় ধাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মনোয়ারুল। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) নিরাপত্তাকর্মী জাফরের ছেলে এবং সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পালিয়ে আসা এক তরুণ-তরুণীকে খুঁজতে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে সাভারে আসে। পরে সাভার মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় তারা মনোয়ারুলের বাসায় অভিযান চালায়। তবে অভিযানের আগেই ওই তরুণ-তরুণী সেখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযানের সময় মনোয়ারুল ছাদে গেলে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার দাবি করেন, ভাগ্নেকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ মনোয়ারুলকে ধাওয়া করলে তিনি ছাদ থেকে পড়ে মারা যান।
অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিখোঁজ তরুণীর অবস্থান সাভারে শনাক্ত হওয়ার পর তারা অভিযান চালান। বাসায় গিয়ে শুধু মনোয়ারুলের বাবা-মাকে পাওয়া যায়। কয়েক মিনিট পর একটি শব্দ শুনে নিচে গিয়ে দেখেন এক যুবক ভবনের নিচে পড়ে আছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পীরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে সহযোগিতা করতে সাভার থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে ছিল। তবে সাভার থানা পুলিশের সদস্যরা ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। ভবনের ভেতরে অভিযান পরিচালনার সময় এক যুবক ছাদ থেকে পড়ে যান। ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









