জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মীর কথোপকথন এবং ক্যাম্পাসে রিকশাচালক, দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও গড়িমসির সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান।
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল আলম শেখের সঙ্গে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরে ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির দাবি, আসাদুলের সঙ্গে জিতুর কথোপকথন ও চ্যাটের কিছু তথ্য সামনে এসেছে। এর একটি বার্তায় জিতুকে আসাদুলকে বলতে দেখা যায়, ‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি।’
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছাত্রশক্তির দাবি, আসাদুলের সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষক আরাফ বেবী এবং জাকসু ভিপির কথোপকথনের তথ্য সামনে এসেছে। এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। ডিজিটাল তথ্য, চ্যাট ও অন্যান্য প্রমাণ আইনানুগভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পুনর্গঠন বা রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আসাদুল, জাকসু ভিপিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাকসু ও হল সংসদের ভিপিদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের রিকশাচালক, দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়। কারা অর্থ আদায় করছে, কী পরিচয় বা ক্ষমতা ব্যবহার করছে এবং ওই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ আদায়ের ক্ষেত্র হতে পারে না। সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের মধ্যে জাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হলে বিশেষ সুবিধায় থাকার বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে অসংগতির অভিযোগ এবং ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপি ঐশী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে ছাত্রশক্তি।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তা ও দায়সারা অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সব অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।









