সোমবার | ২৫ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৭

জাবিতে পোষ্য কোটা নিয়ে নতুন জটিলতা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পোষ্য কোটা বাতিল ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। তবে এবার ‘প্রতিষ্ঠানিক সুবিধা’ নামে কিছু শর্ত যুক্ত করে ওই কোটাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভর্তি পরিচালনা কমিটি।

গত বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানরা বিশেষ সুবিধায় ভর্তি হতে পারবেন। তবে এক শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ৪০ জন এবং একই বিভাগে সর্বোচ্চ চারজন ভর্তি হতে পারবেন। পাশাপাশি একজন শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারী এ সুবিধা কেবল একজন সন্তানের ক্ষেত্রে পাবেন। কিন্তু পাস নম্বর নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মতভেদ থাকায় তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পোষ্য কোটাকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আমৃত্যু গণ–অনশন শুরু করেন ১৪ জন শিক্ষার্থী। ১৯ ঘণ্টা অনশনের পর উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন রাতেই পোষ্য কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত জানান উপাচার্য।

সে সময় উপাচার্য নতুন যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন সেগুলো হলো—পোষ্য কোটায় মোট ৪০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে এবং শুধু সন্তানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পোষ্য কোটায় পাস মার্ক করা হয় ৪০ শতাংশ।

প্রশাসনের ওই সংস্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৪ ফেব্রুয়ারি অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই দিন প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের সাঁটানো পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে দুই পক্ষের উত্তেজনার পর শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। একপর্যায়ে উপাচার্য বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণা করেন।

উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পোষ্য কোটা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় পুরোপুরি বাতিল করা সম্ভব হয়নি। তাই শর্তসাপেক্ষে সুবিধাটি রাখা হয়েছে। আগামী বছর এ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে।”

২০১৯-২০ থেকে চলতি শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে কেবল পাস নম্বর পেয়েই পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এ জটিলতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম ব্যাচের ক্লাস শুরুতে দেরি হচ্ছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করলেও জাবিতে ভর্তি কার্যক্রমই এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নবীন শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভুগছেন।

ইতিহাস বিভাগের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, “আমরা বলেছিলাম, কেবল অনগ্রসর শিক্ষার্থীরা কোটা ভোগ করবে। কিন্তু পোষ্যরা প্রিভিলেজড। প্রশাসন আমাদের সঙ্গে প্রহসন করেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের শিক্ষা শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছর মোট ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৫৯ জন, ২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৫৬ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৫৪ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৫৬ জন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৫৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষায় শুধু পাস নম্বর পেয়েই পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন কেউ কেউ।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031