রবিবার | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ১ জিলকদ, ১৪৪৭

প্রধান নির্বাচন কমিশনার

আশা করছি, এনসিপি গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করবে না

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন

লুকানো নয়, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন উপহার দিতে চান উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন বলেছেন, আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চাই, রাতের অন্ধকারে গোপন কোনো নির্বাচন দিতে চাই না। এনসিপির শাপলা প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশা করছি এনসিপি গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করবেন না। এনসিপিতে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২৪-এর অভ্যুত্থানে যোগদান করেছিল। সুতরাং তারাও দেশের মঙ্গল চান, গণতন্ত্র চান, ভালো চান। আমার বিশ্বাস, গণতন্ত্র উত্তরণের পথটা যাতে সুন্দর হয় সেরকম একটা পরিবেশের তারা সম্মতি দেবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভোটারদের জন্য এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে প্রতিটি বাংলাদেশি ভোট দিতে পারে। প্রবাসে যারা আছেন, তাদের জন্যও আমরা ভোটের ব্যালটের ব্যবস্থা করেছি। রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেই ভোট দিতে পারেন না— এটা কেমন কথা ? তিনি ভোট সংগ্রহ করবেন, কিন্তু দিতে পারবেন না, এটা তো যুক্তিসঙ্গত নয়। এবার আমরা তাদেরও ভোট দেওয়ার সেই ব্যবস্থা করছি।’

রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, কোনো দল যখন নিবন্ধন পায়, আমাদের যে নির্ধারিত প্রতীকের তালিকা আছে সেখান থেকে প্রতীক নিতে হয়। আমাদের ১১৫টি প্রতীক রয়েছে, সেখানে শাপলা নেই, তাই দিতে পারিনি। এখন পর্যন্ত তালিকার বাইরে কাউকে প্রতীক দেওয়া হয়নি। যারা এনসিপিতে নেতৃত্বে আছেন তারা ২০২৪ এর আন্দোলনে সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন। তারা গণতন্ত্রায়ণের পথে বাধা সৃষ্টি করবেন না- সেটা আমি বিশ্বাস করি। আমি তাদের কোনো অংশে কম দেশপ্রেমিক ভাবতে চাই না। তারাও দেশের ভালো চান, তারাও দেশের গণতন্ত্র চান, আমার বিশ্বাস গণতন্ত্রের উত্তরণটা যাতে সুন্দর হয় সে বিষয়ে তারা সম্মতি দেবেন। তারা আমাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানেন।

নতুন করে প্রতীক যোগ করার সুযোগ আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, নতুন করে প্রতীক তালিকায় যুক্ত করা হয়নি আবার তালিকা থেকে কোনো প্রতীক বাদও দেওয়া হয়নি। তবে কমিশন চাইলে প্রতীকের সংখ্যা কমাতে বা বাড়াতে পারে। এনসিপির প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এনসিপি কিংবা কাউকে বঞ্চিত করার জন্য নয়। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতেই আমরা তালিকার বাইরে কাউকে প্রতীক বরাদ্দ দেইনি।

সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনের ‘চোখ’ মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের চোখ হিসেবে কাজ করবেন সাংবাদিকরা। নির্বাচন পরিচালনায় সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়া হবে। সব ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারবেন সাংবাদিকরা। তবে কিছু কিছু বুথে প্রবেশের অনুমতির কথা বলা হয়েছে সেটি হলো যাতে অপসাংবাদিকতা, বা অপপ্রচার না হয় সে জন্য। এখন
অনেকেই মোবাইল একটা নিয়ে ফেসবুক বা ইউটিউবে গুজব ছড়িয়ে দেন। ছবি একটা এআই দিয়ে তৈরি করে দিয়ে দেয়। সেটি রুখার জন্য কিছু নিয়মনীতি রাখা হয়েছে। তবে মুলধারার সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে আগামী নির্বাচনে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     12345
    6789101112
    13141516171819
    20212223242526
    27282930