শনিবার | ৬ জুন, ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ১৯ জিলহজ, ১৪৪৭

তরুণ ভোটারদের ভোটে কেউ বাধা দেবেন না : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ ভোটারদের ভোটে কেউ বাধা দেবেন না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ ভোটারদের ভোট প্রদান বাধাগ্রস্ত না করার আহবান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, “তাদের ভোটে কেউ বাধা দেবেন না। আগে ‘সন্ত্রাসীরা বলত, আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব।’ ওই দিন এখন শেষ। আপনারটা আপনি দেন, আমারটা আমি দেব। এবার তাই হবে, ইনশাআল্লাহ।”

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলার পাড় এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। জনসভার আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী কমিটি।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, কেউ কেউ নিজেদের হেরে যাওয়ার (জাতীয় নির্বাচনে) ভয়ে বাঁকা বা অন্ধকার গলিপথে চলতে পারেন। আমরা নির্দিষ্ট কোনো দলকে বলছি না, ব্যক্তিকেও বলছি না। আমরা আশা করব, জুলাইয়ের চেতনাকে উপলব্ধি করে এগুলো থেকে সরে আসবেন। যদি না আসেন, মনে রাখবেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে যায়নি। তাদের প্রথম কাজটি করেছে, দ্বিতীয় কাজের জন্য তারা এখন প্রস্তুত।

বাংলাদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম দেখতে চান না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের জনগণের অর্থে কেনা অস্ত্র থেকে জনগণের ওপরই গুলি ছোঁড়া হবে, জামায়াত এটি দেখতে চায় না। ফ্যাসিবাদের সব জট কেটে দিতে হলে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি।

জামায়াত আমির বলেন, দেশে এখন নতুন একটি পেশা খুব ভালো চলছে। সেটি চাঁদাবাজি। যারা এই পেশায় যুক্ত, তারা যেন ভালো পথে ফিরে আসে। তাদের হালাল রুজির ব্যবস্থা করা হবে। যদি এই পথ বাদ না দেয়, জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।

বিগত সরকারগুলো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি চরম অবহেলা করেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে শুধু উচ্চস্তরে। নিম্নস্তরে দেওয়া হয়নি। জামায়াত কওমি মাদ্রাসার পরিচালকদের সঙ্গে বসে তাদের ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দেবে।

শফিকুর রহমান আরো বলেন, হেফাজতের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এই স্বীকৃতি দিতে হবে।

জামায়াতের আমির ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী কামাল হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার পরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলামসহ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, এবি পার্টি এবং ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড জামায়াতের নেতারা।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন যাত্রাবাড়ী থানা জামায়াতের আমির একে আজাদ খান, কদমতলী থানার আমির মো. মহিউদ্দিন এবং মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য মিজানুর রহমান মালেক।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930