গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছর ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪০ জন। যাদের মধ্যে ৪৪৪ জন পুরুষ এবং ২৯৬ জন নারী রয়েছেন।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটা থেকে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটা পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় তিনজনের। দুইদিনের মৃত্যুর তথ্য বরিবার এক সঙ্গে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দুইদিনে মৃত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনই বরিশাল বিভাগে।
এ নিয়ে এডিস মশাবাহিত এ রোগে আগ্রান্ত হয়ে চলতি বছর দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৭৯ জনে। আর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৮৩১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী- গত দুইদিনে মৃত ১২ জনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে, দুজনের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে, দুজনের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ঢাকা মেডিকেল, মুগদা মেডিকেল, ডিএনসিসি কোভিড-১৯ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল এবং চট্টগ্রামের এভার কেয়ার হাসপাতালে একজন করে মারা গেছেন।
চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ৬৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি নতুন রোগীদের মধ্যে ২৩৯ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়। আর ঢাকা বিভাগে ১৪৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৭ জন, খুলনা বিভাগে ৫২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন, রংপুর বিভাগে তিন জন, বরিশাল বিভাগে ১৬৬ জন এবং সিলেট বিভাগে আট জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়াও ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২০২১ জন রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫৬ জন, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ১২৬৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সভিত্তিক রোগী ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেন ৫৭৫ জন। এর আগের বছর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।










